ফিলিস্তিনি নারী লায়লা খালেদ, যিনি ইসরায়েলি বিমান হাইজ্যাক করেছিলেন

লায়লা খালেদ একসময় ফিলিস্তিনি সংগ্রামের সবচেয়ে বড় পোস্টারগার্ল ছিলেন।

  • Author

দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ২৯শে আগস্টের। ইতালির রোম বিমানবন্দরে সাদা স্যুট, সানহ্যাট এবং চওড়া সানগ্লাস পরা ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী অপেক্ষা করছিলেন ফ্লাইট টিডব্লিউএ-৮৪০ এর জন্য।

ভেতরে ভেতরে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের মতো দেখতে এই তরুণী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চোখে ধুলো দিয়ে নিজের সঙ্গে একটি পিস্তল এবং দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড আনতে সফল হয়েছিলেন।

তিনি এমন ভান করেছিলেন যে বিমানবন্দরের ওয়েটিং লাউঞ্জে (যেখানে যাত্রীরা বিমানের জন্য অপেক্ষা করেন) বসে থাকা আরেক ব্যক্তি সেলিম ইসাভিকে তিনি চেনেন না।

সেলিম ইসাভি ছিলেন ফিলিস্তিনের মুক্তিবাহিনী ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন’(পিএফএলপি) এর চে গেভারা কমান্ডো ইউনিটের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

আর যে তরুণীর কথা বলা হচ্ছে তার নাম লায়লা খালেদ। লায়লা খালেদ একাই বিমানে চড়ে বৈরুত থেকে রোমে এসেছিলেন।

লায়লা এবং তার সঙ্গী ইসাভি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম শ্রেণীর আসন বুক করেছিলেন যাতে তারা সহজেই বিমানের ককপিটে প্রবেশ করতে পারে।

লায়লা খালিদ ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনী 'মাই পিপল শ্যাল লিভ'-এ লিখেছেন, ‘যেহেতু ইসাভি এবং আমি ওয়েটিং লাউঞ্জে আলাদা সিটে বসেছিলাম, সেসময় শিকাগো থেকে আসা একজন গ্রীক-আমেরিকান আমার সাথে আলাপ জমানোর চেষ্টা করেন।’

'তিনি আমাকে বলেছিলেন যে ১৫ বছর আমেরিকায় থাকার পর তিনি তার মায়ের সাথে দেখা করতে গ্রিসে যাচ্ছেন। এক সময় মনে হয়েছিল তাকে এই বিমান ছেড়ে অন্য বিমানে যেতে বলি, কিন্তু তারপর আমি নিজেকে দমিয়ে রাখি।'